অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

বিশেষ প্রতিবেদন - ১৭ জানুয়ারী, ২০১৭
 
দুর্নীতি বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর অপারগতা প্রকাশ: সারাদেশে অবাধে চলছে ভুয়া প্রকল্প ও ভুয়া বিলের ছড়াছড়ি তথা সরকারি-বেসরকারি হাজার রকমের দুর্নীতি (২৩৪)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ভাবলেশহীন হয়ে স¦ীকার করেছে আইন করে দুর্নীতি বন্ধ সম্ভব নয়। দুর্নীতি বন্ধে দেশের যে দুর্নীতি দমন বিভাগ বা দুদক রয়েছে- সে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ অনেক কর্মকর্তারই দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র জাহির হয়েছে। দুর্নীতি সমাজের আক্রমণাত্মক ব্যাধি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, এসপি, ডিসি থেকে মন্ত্রী- এমনকি খোদ বিচারকের নামেও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ। দেশের সব সরকারই দুর্নীতিতে মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। দেশে ও জনগণের টাকা প্রকল্পের নামে হয় চুরি। পুকুর চুরি নয়; সাগর চুরি। কিন্তু জনগণ থাকে অন্ধকারে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি কোনো পর্যায়েই দুর্নীতি বন্ধ নেই। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা সবক্ষেত্রেই শুধু দুর্নীতি আর দুর্নীতি। দেশ ও জনগণের সচেতনতার জন্য ধারাবাহিকভাবে এখানে উল্লেখ করা হলো: অনিয়ম ও জালিয়াতি ঋণের ৮০ হাজার কোটি টাকা ফেরত পাবেনা ব্যাংক নিয়ম ভেঙে ঋণ দিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে ব্যাংকিং খাত। গত কয়েক বছরে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৮০ হাজার কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ অর্থ আর কখনই ফেরত পাবেনা দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বেহাত হওয়ায় ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থাও বেশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে এসব ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘মন্দ ঋণ’ বলে অভিহিত এই ৮০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা (পুরাতন খেলাপি) ব্যালেন্স শিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আদায় অযোগ্য ঋণ সৃষ্টি হয়েছে আরও প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের অধিকাংশই বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে গেছে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষক মহল। এর বাইরে কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পাচারের তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ঘটনায় ১২টি ব্যাংককে শোকজ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণ পরিশোধের দায়বদ্ধতারও বড়ই দুর্বলতা রয়েছে। এ কারণে ব্যাংক খাতে মন্দ ঋণ বাড়ছে। প্রভাবশালীদের অনেকে ঋণ নিয়ে আর ফেরত দেন না। আবার কিছু অসৎ ব্যাংক কর্মকর্তা জালিয়াতির মাধ্যমে অসৎ ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়েছে। যারা ফেরত না দেয়ার জন্য ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছে তারা হয়তো দেশেই নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নামসর্বস¦ সহস্রাধিক কোম্পানিকে বড় বড় কোম্পানি দেখিয়ে ঋণ দিয়েছে অনেক ব্যাংক। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র মর্টগেজ হিসেবে জমা নিয়েও মোটা অঙ্কের ঋণ দেয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে বড় বড় ঋণ মঞ্জুর করেছে ব্যাংকের অসৎ কর্মকর্তারা। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালকরাও এ ধরনের অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িয়েছে নিজেকে। গভীর পানির দুর্নীতি ঠেকানো যাচ্ছে না কোনো কিছুই নিয়মের মধ্যে হচ্ছে না বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডে (বিএসসিসিএল)। এমডি নিয়োগ, কর্মকর্তা নিয়োগ, ব্যান্ডউইথ বিতরণ, নির্মাণ কাজের বিল পরিশোধ, বিদেশ ভ্রমণ- সব কিছুতেই অনিয়ম হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানে। এসব অনুসন্ধানে একাধিক তদন্ত কমিটিও হয়েছে। তদন্ত কমিটিগুলোর অগ্রগতি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, কার্যত সেগুলোও অসফল হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ গত ১০ মাসেও বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং সুপারিশ অগ্রাহ্য করে পুনরায় অনিয়ম করে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অন্য তদন্ত কমিটি গত পাঁচ মাসেও কাজ শুরু করেনি। আইন অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো কাজ সম্পাদনের বিধান না থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনিয়মের মাধ্যমে কাজ সম্পাদনের পর পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ বিদেশ ভ্রমণে জিও জালিয়াতির আলোচিত ঘটনায় প্রায় দেড় মাস আগে তুলে নেয়া বিল ৭ জানুয়ারির বোর্ড সভায় অনুমোদন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটির ডিজিএম পদে পারভেজ মনন আশরাফকে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত শর্ত ও বিধি অনুসরণ করা হয়নি। শর্তে রয়েছে, ডিজিএম পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। পারভেজ মনন আশরাফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যা বিভাগ থেকে পাস করেছেন। তিনি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সদস্য কিংবা স¦ীকৃত প্রকৌশলীও নন। অথচ যোগ্য প্রার্থী থাকার পরও তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই তাকে ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল কোম্পানির প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা হয়। প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নেয়ার পর ২০ সেপ্টেম্বর পরিচালনা পর্ষদের সভায় তার নিয়োগ অনুমোদন করা হয়! সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে বিদেশি কোম্পানির টাকায় বিদেশ ভ্রমণকে জায়েয করতে বিএসসিসিএলে অবৈধভাবে গভর্নমেন্ট অর্ডার (জিও) পরিবর্তনের ঘটনা সম্প্রতি ব্যাপক আলোচিত হয়। এ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই জিও জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নেয়া ১ লাখ ৭২ হাজার ৪১০ টাকার বিলটি গত ৭ জানুয়ারি বিএসসিসিএলের বোর্ড সভায় অনুমোদন করা হয়। ১ নভেম্বর জারি করা জিওর পরিপ্রেক্ষিতে বিএসসিসিএল ওই ভ্রমণব্যয় করবে জানিয়ে ৪ ও ৫ নভেম্বর বিলটি অনুমোদনের প্রস্তাব বোর্ডে উত্থাপন করা হয়েছিল। অথচ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের এখন পর্যন্ত বিদ্যমান ওই জিওতে জানানো হয়েছিল, ওই ভ্রমণের খরচ বহন করবে ভারতীয় কোম্পানি তেজাশ। এ ছাড়া এর আগে চার দিনের সফরের একটি বিল জমা দিয়ে অর্থ তোলার পর বোর্ড সভায় সফরটি দুই দিনের দেখানো হয়। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, 'নিয়ম অনুযায়ীই বিলটিতে বোর্ডের অনুমোদন নেয়া হয়েছে।' মাত্রাতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও পলিসি তামাদি রাজস¦ ফাঁকি, কমিশনে অনিয়ম, হিসাবে গরমিল, সম্মেলনের নামে আর্থিক অনিয়ম, পরিচালকদের অনৈতিক সুবিধা, এজেন্ট ও এমপ্লয়ার অব এজেন্ট প্রশিক্ষণ ব্যয়ে অনিয়মসহ নানাবিধ অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে জীবন বীমা কোম্পানি প্রগতি লাইফের বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের কারণে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রাহকরা। এতে একদিকে হচ্ছে আইন লঙ্ঘন, অন্যদিকে মানি লন্ডারিংয়ের আশঙ্কা। ব্যবস্থাপনা খাতে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ খরচ করেছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এতে কোম্পানিটির ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। কারণ ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত যে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে তার ৯০ শতাংশই পাওয়ার কথা ছিল বীমা গ্রাহকদের। মাত্রাতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের পাশাপাশি প্রতি বছর কোম্পানিটিতে অস¦াভাবিক হারে বীমা পলিসি তামাদি (বন্ধ) হয়ে যাচ্ছে। বীমা গ্রাহকদের সঠিক সেবা না দেয়ার কারণে পলিসি অস¦াভাবিক হারে তামাদি হচ্ছে বলে মনে করছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। প্রগতি লাইফে বিশেষ নিরীক্ষা চালিয়ে আইডিআরএ প্রমাণ পেয়েছে, ব্যবস্থাপনা ব্যয় খাতে প্রগতি লাইফ আইন লঙ্ঘন করে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে বছরে ১৩৭ কোটি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার ৫৬১ টাকা অবৈধভাবে ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ১২ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৬৯৫ টাকা, ২০১০ সালে ২৭ কোটি ৫৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫৯ টাকা, ২০১১ সালে ২৮ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার ৬১৭ টাকা, ২০১২ সালে ২৮ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার ১৯৪ টাকা, ২০১৩ সালে ২৩ কোটি ৬৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৪ টাকা এবং ২০১৪ সালে ১৬ কোটি ৭১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৩২ টাকা আইনি সীমার অতিরিক্ত খরচ করা হয়। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী যে তন্ত্রের উপর নির্ভর করে, যে প্রশাসনের উপর নির্ভর করে, যে আর্থ-সামাজিক আবহের উপর নির্ভর করে দুর্নীতি বন্ধ করতে চান তাতে রয়েছে গলদ, অপূর্ণতা ও ভ্রান্তি। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যমীনে এবং পানিতে যা ফিতনা-ফাসাদ রয়েছে সবই মানুষের হাতের কামাই।” অপরদিকে সবকিছুর সমাধান সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই এই পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আমি সবকিছু বর্ণনা করেছি।” অর্থাৎ কেবলমাত্র পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যস্থিত হুকুম-আহকাম মুতাবিক চললেই দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল সম্পূর্ণ সম্ভব। কিন্তু দেশের সরকার তা কবে বুঝবে? জনগণই বা কবে উপলব্ধি করবে? (ইনশাআল্লাহ চলবে)







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal