অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ১৭ জানুয়ারী, ২০১৭
 
রায় দ্রুত কার্যকর চায় নিহতদের পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের মামলায় ২৬ আসামির ফাঁসির রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আসামিপক্ষ; দোষীদের সাজা দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে তারা। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, “আমরা সন্তুষ্ট। কিন্তু আমরা চাই, এই রায় দ্রুত কার্যকর হোক। হাইকোর্টে যাতে এই রায় বহাল থাকে।” চন্দন সরকারের মেয়ে সুস্মিতা সরকারও রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলো। সেও বলেছে, আসামিদের সাজা দ্রুত কার্যকর হোক- এটাই তাদের চাওয়া। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ ফেলে দেয়া হয় শীতলক্ষ্যা নদীতে। ওই ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি মামলা করেন। বিচার শেষে গতকাল ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) একসঙ্গে দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন। রায়ে নারায়ণগঞ্জের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সাবেক ৩ র‌্যাব কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামির ফাঁসির আদেশ হয়; বাকি ৯ আসামিকে দেয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদের কারাদ-। রায়ের পর সেলিনা ইসলাম বলেন, “স্বামীকে হারিয়ে যে অসহনীয় কষ্ট ও দুঃখের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, এই রায়ের পর সেই কষ্ট কিছুটা হলেও ভোলার চেষ্টা করতে পারব।” চন্দন সরকারের পরিবারের হয়ে এ মামলা লড়েন আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান, যিনি গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “এই রায়ে আমরা আনন্দিত। আমরা খুশি হয়েছি। ৩৫ জন আসামির মধ্যে সবার মৃত্যুদ- হলে আরো বেশি খুশি হতাম।” নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, মূল আসামি নূর হোসেন ও তারেক সাঈদ রায়ের সময় ভাবলেশহীন ছিলো। তাদের এ আচরণ প্রমাণ করে, ‘তারা খুনি’। “রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। যে ৯ জনের ফাঁসি হয়নি, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর তা দেখে প্রয়োজনে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।” ৭ খুন মামলার মূল আসামি মজিবর এখনো ধরা পড়েনি: ৭ খুন মামলার আরেক প্রধান আসামি মজিবর এখনো ধরা পড়েনি। মজিবর এবং তার ছেলে ছক্কাকে শাস্তি দিলে সন্তুষ্ট হতেন বলে জানিয়েছেন নিহত গাড়ি চালক ইব্রাহিমের বাবা। তাই তিনি এই রায়ে আংশিক খুশি। অভিযোগ আছে, আলোচিত ৭ খুনের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মামলার এজহারে যাদের নাম ছিল তাদের কয়েকজনের নাম কেটে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের বাবা শহীদুল ইসলাম চেয়ারম্যান বলেছেন, ইকবাল ও আশিক মূল পরিকল্পনাকারী ছিল। এদিকে নজরুল ইসলামের স্ত্রী বিউটি বলেছেন, ‘এই রায় সরকারেরও আংশিক বিজয়।’ আসামি পক্ষের আইনজীবী সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আবেগপ্রবণ হয়ে রায় দিয়েছে আদালত। আমার মক্কেল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় নাই। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’ আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী সুলতানুজ্জামান বলেন, ‘আমার মক্কেল মনে করে এই আদালতে সে ন্যায়বিচার পায়নি। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।’ ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হয়। পরদিন ২৮ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। ওই মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নূর হোসেনকে প্রধান করে ৬ জনকে আসামি করা হয়। ৩০ এপ্রিল বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা লাশগুলো শনাক্ত করে।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal