অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ১৭ জানুয়ারী, ২০১৭
 
বিক্ষোভের মধ্যে গুলিস্তানে হকার উচ্ছেদ * ডিসিসি মেয়রের কাছে ১০ দফা দাবিতে হকার্স ইউনিয়নের স্মারকলিপি
নিজস্ব প্রতিবেদক:

দিনের বেলায় ফুটপাতে হকার বসা বন্ধ করতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর গুলিস্তান ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকার অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। গতকাল ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) বেলা ১১টা থেকে সিটি করপোরেশনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযান চলার সময় বিক্ষুব্ধ হকাররা মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া যুবলীগের একটি কার্যালয় ভাঙতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। অভিযানের সময় গুলিস্তান ও আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হযরত গোলাপ শাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফের সামনে থেকে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। এ সময় গুলিস্তান মার্কেট, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার, ঢাকা ট্রেড সেন্টার, বঙ্গবন্ধু পাতাল মার্কেট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অবশ্য আগের দিনের উচ্ছেদের পর মেয়র সাঈদ খোকন অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়ায় ফুটপাতের মালামাল আগেই সরিয়ে নিয়ে যায় বেশিরভাগ দোকানদার। অভিযানের সময় ফুটপাতে থাকা হকারদের মালামাল রাখার চৌকি ভেঙে দেয়া হয়। এছাড়া ফুটপাতে গড়ে তোলা কয়েকটি পাকা স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেয় সিটি করপোরেশনের বুলডোজার। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযানের সময় উপস্থিত ছিল ৭ প্লাটুন পুলিশ। এছাড়া সিটি করপোরেশনের বুলডোজার, পে-লোডারসহ ১৫টি বাহন উচ্ছেদ কার্যক্রমে অংশ নেয়। অভিযান চলাকালে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ হকার গুলিস্তান সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গুলিস্তান মার্কেট এবং গুলিস্তান প্লাজা মার্কেটের সামনের ফুটপাতে গড়ে তোলা ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের গুলিস্তান ইউনিটের কার্যালয় ভাঙতে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। সিটি করপোরেশন ও মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতেও শোনা যায় কয়েকজনকে। পরে ওই কার্যালয়ের একপাশের বেড়া ভেঙ্গে দিয়ে আসে করপোরেশনের বুলডোজার। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খান মোহাম্মদ নাজমুস শোয়েব সাংবাদিকদের বলেন, “আমার কাজ নির্দেশ দেয়া। এ স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি।” বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ফুটপাতের উপর থাকা বিআরটিসির একটি ভলভো বাসের কাউন্টারও ভেঙে দেয়া হয় অভিযানে। হকার্স ইউনিয়নের অবস্থান ধর্মঘট: এদিকে পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে সকাল ১০টার দিকে নগরভবন ঘেরাও করতে যায় বাংলাদেশ জাতীয় হকার্স ইউনিয়ন। তবে পুলিশি বাধায় তার নগর ভবনের কাছে ঘেঁষতে পারেনি। বঙ্গবাজার মোড়ে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ দেখান। হকারদের বিক্ষোভের আগেই হযরত গোলাপশাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ এলাকা থেকে বঙ্গবাজার মোড় পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। বেলা পৌনে ১টার দিকে হকারদের একটি দল মেয়র সাঈদ খোকনের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান। পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ না করা, হকারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া, চাঁদাবাজি বন্ধ করা, হকারদের উপর ‘দমন-পীড়ন’ বন্ধ এবং প্রকৃত হকারদের তালিকা করে পরিচয়পত্র দেয়াসহ ১০ দফা দাবির কথা স্মারকলিপিতে তুলে ধরেন তারা। হকার্স ইউনিয়নের নেতারা পরে মেয়রের সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠকও করেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উপদেষ্টা সেকেন্দার হায়াত বলেন, “আমরা আমাদের বক্তব্য দিয়েছি। তিনি আমাদের কথা না শুনে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। “আমরা বলেছি, হকারদের উঠিয়ে দিলে তাদের যাওয়ার জায়গা থাকবে না। সিটি করপোরেশন যেন তাদের অবস্থান পাল্টায় সে ব্যাপারে অনুরোধ করেছি। আমরা বলেছি, রাস্তায় যেন যানজট না হয়, রাস্তাঘাট যেন পরিচ্ছন্ন থাকে সে দায়িত্ব হকাররা নেবে। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শোনেননি। আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।” হকার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকার ফুটপাত ও রাস্তা অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। “এই শহর বিশৃঙ্খলভাবে চলতে পারে না। আমাদের আরও কিছু কর্মসূচি আছে, যেগুলো আমরা করব। আপাতত হকার উচ্ছেদ করে রাস্তা পরিষ্কার করব। যারা আজ স্মারকলিপি দিয়েছেন, তাদের আহ্বান জানাই, জনগণের স্বার্থে সবাই এ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে জনগণের ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করে দেই।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে অনেকে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। “রাজনৈতিক নামধারী গুটিকয়েক লোক যদি কোনোধরনের অবৈধ স্থাপনা করে জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে জনগণের চলাচল নির্বিঘœ করতে করপোরেশেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। “সেখানে কে কোন্ রাজনৈতিক দলের সদস্য, কে কোন অঙ্গসংগঠনের সদস্য, কার কোথায় কোন অফিস রয়েছে সেটা আমাদের বিবেচনার বিষয় না।” পল্টনে পুলিশ-হকার পাল্টাপাল্টি ধাওয়া রাজধানীর পল্টনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ফুটপাতে দোকান উচ্ছেদের সময় পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এ পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এদিন দুপুরে গুলিস্তান, মতিঝিল এলাকায় ফুটপাত থেকে হকারদের ভাসমান দোকান উচ্ছেদ শুরু করে ডিএসসিসি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ১টায় উচ্ছেদ অভিযানের দুটি গাড়ি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ হয়ে পল্টন মোড়ে গেলে হকাররা পূর্বাঞ্চল পত্রিকার গলি থেকে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় উচ্ছেদকারী দলের গাড়ি সেখান থেকে সরে যায়। হকাররা প্রায় ১০ মিনিটের মতো ইট-পাটকেল ছোড়ে। নিজেদের রক্ষার্থে পুলিশ পেছনে হটতে বাধ্য হয়। ১০ মিনিট পর পুলিশ হকারদের উপর হামলা চালায়। রাস্তায় ও পূর্বাঞ্চল পত্রিকার গলির বিভিন্ন দোকানে আশ্রয় নেয়া হকারদের বের করে তাদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। দুপুর ২টার দিকে পল্টন এলাকার পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বে থাকা ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খান নাজমুস শোয়েব বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে যারা ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসতে চান তাদের উচ্ছেদ করে দেয়া হবে। কোনো প্রতিকূলতাই এ অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন হকাররা। তাদের পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করলে তা প্রতিহতের হুমকি দিচ্ছেন তারা। অন্যদিকে বিভিন্ন ফুটপাতে হকাররা না বসায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন পথচারীরা। তারা বলছেন, ফুটপাতে দোকান বসালে ঠিকমতো হাঁটা যায় না। ফুটপাত ফাঁকা থাকলে সহজে মানুষের চলাচলের পাশাপাশি রাজধানীর সৌন্দর্য আরো বাড়বে। ডিসিসি মেয়রের কাছে ১০ দফা দাবিতে হকার্স ইউনিয়নের স্মারকলিপি: স্থায়ী পুনর্বাসন, চাঁদাবাজি বন্ধসহ দশ দফা দাবিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন। গতকাল ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) দুপুরে ইউনিয়নের এগার সদস্যের প্রতিনিধি দল এ স্মারক লিপি দেয়। এর আগে উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করে তারা। হকার্স নেতারা বলেন, রাজধানীতে কয়েক লাখ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে ফুটপাতে হকারি করে। তাদের পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করা হলে পথে বসা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। গতকালও গুলিস্তানে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সিটি করপোরেশন। নগরভবনে হকারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন জানান, কর্মদিবসে নাগরিকদের কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা মেনে নেয়া হবে না।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal