অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

বিশেষ প্রতিবেদন - ১৫ জানুয়ারী, ২০১৭
 
সন্ত্রাসবাদের উৎস সন্ধান এবং নির্মূল প্রসঙ্গে-২
আল ইহসান ডেস্ক:

আ’লীগ যখন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল হয়ে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার জামাত শিবিরের সাথে ১৯৯৬ সালে কথিত কৌশলগত ঐক্য গড়ে তুলতে এবং ২০০৬ সালে তথাকথিত খেলাফত মজলিসের সাথে ৫ দফা চুক্তি এবং স্বৈরাচারসহ কয়েকটি উগ্র শক্তির সাথে ‘মহাজোট’ গঠন করতে পারে, তখন বিএনপি’র সঙ্গে তো জামাতের মতাদর্শগত জানে-মন দোস্তী সম্পর্ক আছে, সেখানে তাদের মন্ত্রী করার ব্যাপারে কোনো সমস্যা না হওয়ারই কথা। জামাত মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর তাদের যে নিজস্ব এজেন্ডা আছে সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য তারা যে কাজ করবে এটাই সবার জানা বিষয়। তাদের এজেন্ডা হলো আল্লাহর আইন আর সৎ লোকের শাসন কায়েম করার নামে মৌলবাদী সন্ত্রাসবাদী তা-ব চালানো। যেটা বর্তমান ধর্ম ধ্বংসী সন্ত্রাসীরাও চায়। এই চাওয়ার সঙ্গে কিন্তু জামাত ও সন্ত্রাসবাদীর মিল আছে। তাদেরকে ধর্ম ধ্বংসী সন্ত্রাসী এ কারণেই বলা প্রয়োজন। কারণ সন্ত্রাসী বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। সব সন্ত্রাসীর লক্ষ্য কিন্তু এক থাকে না। এরা ধর্মে মানবতাবোধের যে আবেদন আছে সেটাকে ধ্বংস করতে চায়Ñ বিশেষ করে ইসলামের শান্তি, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্বভাবকে; তাই এরা ধর্ম ধ্বংসী সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসবাদী। জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বীভৎস রূপটি আমরা প্রকাশ্যে দেখতে পাচ্ছি। তাদের যে আরো অপ্রকাশিত বহুমাত্রিক রূপ থাকতে পারে, সেটা কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি না। তারা আর যাই করুক তা কিন্তু দৃষ্টির অন্তরালেই থেকে যাচ্ছে। খালেদা-নিজামীর জোট সরকারের সময় ২০০৪ সালে সর্বহারা নির্মূলের নামে উত্তরাঞ্চলের বাগমারায় ‘টেস্ট কেস’ শুরু করে জেএমবি’র কমান্ডার, ধর্ম ধ্বংসী সিদ্দিকুল ওরফে বাংলা সন্ত্রাসী। তারা ক্রুসেডারদের ন্যায় বর্ববরতা চালাচ্ছিলো এবং তার বিরুদ্ধে যখন সারা দেশে নিন্দা প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছিলো, তখন সেটাকে আড়াল করার জন্য মইত্যা রাজাকার নিজামী বললো- ‘বাংলা ভাই আসলে মিডিয়ার সৃষ্টি’। আবার এই কথার যখন প্রতিবাদ হতে লাগলো মইত্যা রাজাকার নিজামী নির্লজ্জের মতো ঘুরিয়ে ফেললো এবং বললো, একথা আমি বলিনি। কিন্তু ওই সময় জামাত নেতাদের হানাদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও এসব বিষয়ে এড়িয়ে যাবার উপায় নেই। সারা দেশে একযোগে ৬৩ জেলায় মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে এতো সূক্ষ্মভাবে বোমা হামলা নিশ্চয়ই শুধু জেএমবি’র কাজ বলে মনে হয় না। বড় কোনো শক্তির সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব নয়। অনেক সন্ত্রাসবাদী ধরা পড়ছে প্রায় যখন-তখন। সন্ত্রাসবাদী কিন্তু কমছে না, তাহলে এদের দ্রুত জন্ম হচ্ছে কোথা থেকে? নিশ্চয়ই কোথাও রিজার্ভ আছে সেখান থেকেই সন্ত্রাসবাদী সাপ্লাই হচ্ছে। সেই সাপ্লাইয়ের কারখানা খুঁজে বের করে, সেখানে হাত দিলেই সফলতা আসতে পারে। ২০০৭ সালের ১ মে ঢাকা চট্টগ্রাম সিলেট রেলস্টেশনে যে বোমা হামলা হয়, হামলাকারী সংগঠনের নাম দেয়া হয় জাদিদ আল কায়েদা। আমরা যতোদূর জানতে পেরেছি- এদের কার্যক্রম হলো চারদলীয় জোট সরকারের সময় সক্রিয় ‘ইন্টারন্যাশনাল খতমে নব্যুয়ত মুভমেন্ট’ নামে একটি উগ্র মৌলবাদী সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের মতো। তাদের নেতাদের ধরলেই ২০০৭ সালের ১ মে’র ঘটনার মূল হোতাদের পাওয়া যেতো। ‘ইন্টারন্যাশনাল খতমে নব্যুয়ত মুভমেন্ট’-এর সন্ত্রাসবাদীরা প্রকাশ্যে কাজ করতে গিয়ে জনগণের দ্বারা বাধা পেয়ে এখন বিকল্প পথে অগ্রসর হচ্ছে। আরো ভয়ঙ্কর যে খবর ২০০৭ সালে দৈনিক পত্রিকায় বেরিয়েছে, খবরটির যদিওবা তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়নি- ৬ মে’র ঘটনা সেনা ক্যাম্পের ভিডিও চিত্রধারণ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ডাকবাংলোয় অবস্থিত অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গিয়ে রাতে আটক হয় ছাত্রশিবিরের কর্মী। তাহলে কি তারা আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকেও টার্গেটে রেখেছে? তখন দেশে জরুরী অবস্থা চলার পরও কোন শক্তির বলে তারা এমন দুঃসাহস দেখাতে পারে! তাদের শিক্ষাগুরুরা একই শ্রেণীভুক্ত। জামাতের লোকেরা যেমন মওদুদী, গো’আযম, নিজামী, সাইদীর লেখা বই পড়ে, আবার সন্ত্রাসবাদী আস্তানাতেও একই লেখকদের বইপত্র পাওয়া যায়; তাহলে তাদের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায় থাকলো? তারা নিজেদের সুবিধামত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন নামে কাজ করেই যাচ্ছে। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সন্ত্রাসবাদী নেতা মতিন মেহেদীসহ বিভিন্ন সময়ে ধরাপড়া সন্ত্রাসবাদীরা স্বীকার করেছে দেশে ৩০টিরও মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। তাহলে কি তারা পূর্বঘোষিত টার্গেটকে সামনে রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে?







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal