অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

বিশেষ প্রতিবেদন - ১৫ জানুয়ারী, ২০১৭
 
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৪ দফা দাবিতে- আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩ ইসলামী দলের বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মানববন্ধন ও সমাবেশে উত্থাপিত দাবিসমূহ: (১) উন্নয়নের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে অবিরাম গতিতে এগিয়ে চলায় এবং ব্যাপক সাফল্যের সাথে সরকার তিন বছর পূর্ণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণঢালা উষ্ণ অভিনন্দন। (২) ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের ধর্মবিশ্বাসের খিলাফ এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলামে হারাম ঘোষিত মূর্তি সুপ্রীম কোর্টে স্থাপন করে জামাত-জোটের কাছে সরকারবিরোধী ইস্যু তুলে দেয়া যাবে না। সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণদের ক্ষেপিয়ে তোলা যাবে না। (৩) পরকীয়ার জন্য সন্তান হন্তারক মা তৈরিকারী, পিতা-মাতা হন্তারক সন্তান তৈরিকারী; পারিবারিক বন্ধন ও শান্তি ধ্বংসকারী, কিশোর অপরাধী তৈরিকারী, আত্মহত্যা ও হত্যায় উদ্বুদ্ধকারী, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ধ্বংসকারী, সংবিধান বিরোধী- ‘স্টার জলসা, জি বাংলা, স্টার প্লাস, সনি টিভি, জিটিভি, জি-সিনেমা’সহ সব ভারতীয় টিভি চ্যানেল অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। (৪) পাঠ্যপুস্তক নিয়ে বামপন্থী মিডিয়া ও মহলের মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ এবং নতুন পাঠ্যপুস্তকে মৌলবাদী হিন্দুত্ববাদী এবং ইসলামী মূল্যবোধ ও এদেশীয় ঐতিহ্যবিরোধী যেসব বিষয় রয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। এজন্য আমাদের চরম সতর্কবার্তা। এ উদ্দেশ্যে আগামী ১৫ জানুয়ারি পাঠ্যপুস্তক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩টি ইসলামিক দলের উদ্যোগে ৪ দফা দাবিতে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তারা পাঠ্যপুস্তক নিয়ে বামপন্থী মিডিয়ার মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদ, পাঠ্যপুস্তকে থাকা মৌলবাদী হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িকতা বাদ দেয়া, হাইকোর্টের সামনে মূর্তি স্থাপিত মূর্তি অপসারণ করাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। মানববন্ধনে বক্তারা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ, রুপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন, পায়রা বন্দর নির্মাণ, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ, মহেশখালীতে কয়লা হাব নির্মাণের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি আবহাওয়া পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘ ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’সহ আরো অনেক পুরস্কার লাভ এবং টানা দ্বিতীয়বার সরকার গঠনের পর উন্নয়ন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশী-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত, বিশ্ব মন্দার মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়েছেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে অবিরাম গতিতে এগিয়ে চলায় এবং ব্যাপক সাফল্যের সাথে সরকার তিন বছর পূর্ণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণঢালা উষ্ণ অভিনন্দন জানান। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত গ্রীক দেবী থেমিসের মূর্তি অপসারণ করতে হবে: বক্তারা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত গ্রীক দেবী থেমিসের মূর্তি অপসারণ করতে হবে। গত কয়েকদিন থেকে বিভিন্ন সংগঠন এ বিষয়টি নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে পেপার পত্রিকায় বক্তৃতা, বিবৃতি দিচ্ছে এবং মিছিল সমাবেশ করে যাচ্ছে। সরকার সমর্থিত ওলামারাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- ফেসবুকেও সমালোচনার ঝড় বইছে। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। জামাত-জোট হেফাযতকে এ নিয়ে আন্দোলনের সুযোগ করে দেয়া বন্ধ করতে হবে। আন্দোলনকারী দলগুলো প্রচার করার সুযোগ পাচ্ছে যে, সংখাগরিষ্ঠ মুসলমান দেশে অন্য ধর্মের মূর্তি তথা গ্রীক দেবী থেমিসের মূর্তি সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গনে স্থাপনের অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী পদক্ষেপ। তারা এটা ইসলামের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বলে প্রচার করার সুযোগ পাচ্ছে। বক্তারা বলেন, গ্রীক পৌরনিক কাহিনী অনুযায়ী গ্রীকদের ন্যায় বিচারের দেবী বা ‘লেডি অব জাস্টিস’ হলো দেবী ‘থেমিস’। যার এক হাতে খোলা তলোয়ার। কালো কাপড়ে দু’চোখ বাঁধা এবং অপর হাতে থাকে দাঁড়িপাল্লা। সেই গ্রীকদের দেবী থেমিসের মূর্তি দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপন এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতির উপর চরম আঘাত বলে আন্দোলনকারীরা প্রচার করছে। কারণ পবিত্র দ্বীন ইসলামে যেকোনো ধরনের মূর্তি তৈরি করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, “আমি মূর্তি এবং বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করার জন্য প্রেরিত হয়েছি।” সেখানে দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গনে মূর্তি স্থাপন করা সরকারকে বিতর্কিত করারই এক হীন প্রচেষ্টা বলেও আন্দোলনকারীরা প্রচার করছে। বক্তারা বলেন, সংবিধানে যেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম স্বীকৃত সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ধর্মীয় স্বকীয়তা প্রাধান্য না দিয়ে মুসলমানদের উপর অন্য ধর্মীয় সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়ার হঠকারী সিদ্ধান্ত বলেও তারা প্রচার করতে পারছে। এর মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তারা তুলতে পেরেছে। বক্তারা বলেন, ‘প্রধান বিচারক সুপ্রিম কোর্টে মূর্তি স্থাপন করেছে- সে এটা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।’ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার সেটা বলেছেন। অন্যান্য আইনজীবীরাও বলেছেন, এই ভাস্কর্য নিয়ে আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষের আপত্তি রয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণও বলেছেন- সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মূর্তি স্থাপন বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সর্বোপরি ধর্মীয় চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং ইসলাম ধর্মে সম্পূর্ণ হারাম। তারা বলেছেন, এ ভাস্কর্য স্থাপন করা দেশের মানুষ কোনোভাবেই সমর্থন করছে না। আন্দোলনকারীরা প্রচার করছে- প্রধান বিচারক তার নিজস্ব চিন্তা চেতনায় বিধর্মী মূর্তি মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। গ্রীক দেবী এদেশের জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়। বিশেষ করে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের সাংস্কৃতির সম্পূর্ণ খিলাফ। ভারতে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাবধারা মূল্যায়ন করা হয়, তবে এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ভাবধারা মূল্যায়ন করা হবে না কেন? এটা সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদ তথা রাষ্টধর্ম ইসলামেরও বিরোধী। বক্তারা বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে মুসলমানদের কোনো ধর্মীয় নিদর্শন এখানে স্থাপন করা উচিত ছিল। যাতে সরকারকে আরো জনপ্রিয় ও ধর্মপ্রাণদের সরকার হিসেবে তুলে ধরা যায়। বিতর্কিত এসব সিদ্ধান্তের কারণে জামাত-জোট, হেফাজত এখন আন্দোলনের সুযোগ পেয়েছে ও আন্দোলন করছে। সব ভারতীয় টিভি নিষিদ্ধ করতে হবে: বক্তারা বলেন, ভারতীয় টিভি-চ্যানেল আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে করেছে ক্ষত-বিক্ষত, চারিত্রিক অবক্ষয়ের যাঁতাকলে আটকে যাচ্ছে আমাদের সম্ভবনাময়ী যুব সমাজ, মুসলিম জাতিগুলো আজ নামসর্বস্ব জাতিতে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় টিভি চ্যানেল ও সিরিয়ালের মূল উদ্দেশ্য হলো- হিন্দুত্ববাদী চেতনাকে মুসলমানদের মন ও মস্তিষ্কে গ্রথিত করা। ভারতীয় হিন্দি ও বাংলা সিরিয়ালগুলো শুরু হয় কথিত ‘মঙ্গলপ্রদীপ’ জ্বালানোসহ ব্যাকগ্রাউন্ডে হিন্দু শ্লোক বা ধর্মসঙ্গীত দিয়ে। আবহসঙ্গীতে থাকে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, মন্দিরের ঘণ্টা, ঢোল-বাদ্য, পূজার সঙ্গীত ইত্যাদি। ওইসব সিরিয়াল দেখে বাংলাদেশের তরুণী-মহিলারা যেভাবে মাতাল হচ্ছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সেইসাথে আরো বলতে হয়, ভারতীয় সিরিয়াল আমদানির সুযোগ দিয়ে সরকারই এদেশে অবাধ ভারতীয় সংস্কৃতির লালন ও প্রসার করছে। যা সংবিধানের ২৩নং অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট খেলাপ। সংবিধানের ২৩নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।’ বক্তারা বলেন, ভারতের খবরদারী, চোখরাঙ্গানী সব উপেক্ষা করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নেপাল ভারতের ৪২টি টিভি চ্যানেল বন্ধ করেছে। নেপালের নতুন সংবিধানের বিরুদ্ধে ভারতের অবৈধ হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে নেপাল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাহলে পরকীয়ার জন্য সন্তান হন্তারক মা তৈরিকারী, পিতা-মাতা হন্তারক সন্তান তৈরিকারী পারিবারিক বন্ধন ও শান্তি ধ্বংসকারী, কিশোর অপরাধী তৈরিকারী, আত্মহত্যা ও হত্যায় উদ্বুদ্ধকারী, ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি সৃষ্টিকারী স্টার জলসা, জি বাংলা, স্টার প্লাস, সনি টিভি, জিটিভি, জি-সিনেমাসহ সব ভারতীয় টিভি চ্যানেল বাংলাদেশ বন্ধ হবে না কেন? অবিলম্বে এসব ভারতীয় টিভি নিষিদ্ধ করতে হবে। অবিলম্বে পাঠ্যপুস্তক থেকে সব হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদ এবং এদেশীয় ঐতিহ্যবিরোধী যেসব বিষয় রয়েছে তা প্রত্যাহার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হিন্দু নিয়োগে আধিপত্য বন্ধ করতে হবে। এলক্ষ্যে আগামী ১৫ জানুয়ারি পাঠ্যপুস্তক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি: মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলাম অবমাননাকর হিন্দুত্ববাদী ও নাস্তিক্যবাদী পাঠ্যক্রম বাদ দেয়া হয়েছে বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে সামান্য ব্যতীত বর্তমান পাঠ্যপুস্তক থেকে বিতর্কিত হিন্দুত্ববাদ বাদ দেয়া হয়নি। বরং পাঠ্যপুস্তকে তা বহাল তবিয়তেই আছে। শুধু ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ে বিভিন্ন পবিত্র আয়াত শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ২৪টি ভুল করা হয়েছে। বাংলাভাষার স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ মিলে মোট ৪৯টি বর্ণের উদাহারণ দিতে ৩৪%-এরও বেশি ইসলাম ধর্ম অবমাননাকর অনৈসলামিক হিন্দুত্ববাদী ও বিজাতীয় সংস্কৃতি শেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাংবিধানিক অধিকার মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা না করে উপজাতি নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় পাঠ্যবই ছাপানো হয়েছে। এমনকি শিশুদের ১ম শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ে ষড়যন্ত্রমূলক ম্যাসেজ হিসেবে ছবির মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের শিশুবেলাতেই যৌনতার পাঠ দেয়া হয়েছে। বক্তারা বলেন, নতুন পাঠ্যপূস্তকে ইসলাম ধর্ম অবমাননাকর হিন্দুত্ববাদী চিন্তা চেতনা বাদ দেয়া হয়নি। ১ম শ্রেণীর বাংলা বইয়ের প্রায় প্রতিটি পৃষ্ঠাতেই রয়েছে অসংখ্য ইসলামবিরোধী ও মুসলিম সংস্কৃতির বিপরীত বিষয়। তন্মধ্যে শুধুমাত্র বর্ণ পরিচয় বা অক্ষর জ্ঞান অংশেই যেসব ইসলামবিরোধী ও বিধর্মীয় বিষয় শেখানো হচ্ছে তার কিছু হলো, ঋ-তে শেখানো হচ্ছে ‘ঋষি’। ‘ঋষি’ হিন্দুদের ধর্মগুরু। র-তে লেখা হয়েছে ‘রথ টানি’। যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠান। পূজা সংস্কৃতির সাথে জড়িত ‘ঢ-তে ‘ঢাক’সহ হিন্দুয়ানী বিষয়াদি শেখানো হচ্ছে। ৯৮ ভাগ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে পাঠ্যপুস্তকে এরকম হিন্দুত্ববাদ ঢুকিয়ে কোমলমতি শিশুদের হিন্দু ধর্মে আগ্রহী করা হচ্ছে। বক্তারা বলেন, কিছু সাম্প্রদায়িক মিডিয়া জনকণ্ঠ, সংবাদ, কালেরকণ্ঠ, বিডিনিউজ, প্রথম আলো এবং বামপন্থী মহল যারা প্রতিনিয়ত হিন্দুত্ববাদ, নাস্তিক্যবাদ তোষণ করে, তারা পাঠ্যপুস্তকে সামান্য হিন্দুত্ববাদ বাদ দেয়াকে মৌলবাদ আর জামাত-হেফাযতের নামে মুসলমানদের ধর্মীয় অনূভূতির বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তারা পাঠ্যপুস্তকে গুটিকয়েক ইসলামী ভাবধারার প্রবন্ধকে মৌলবাদের উগ্রপন্থা বলেও আখ্যায়িত করেছে। সাম্প্রদায়িক পাঠ্যবই বলেও আখ্যায়িত করেছে। অথচ জামাত-জোট, হেফাযতীরা কিংবা মৌলবাদ ‘ইসলাম ও মুসলমান’দের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাছাড়া ২০১৬ সালের পুরো পাঠ্যসূচিই ছিল হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদী সাম্প্রদায়িকতায় ভরপুর। এবারের পাঠ্যপুস্তকেও সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদের জয়জয়কার। অথচ সাম্প্রদায়িক মিডিয়া ও মহল তখন এসব বই ও প্রবন্ধকে হিন্দু মৌলবাদী বই বা সাম্প্রদায়িক পাঠ্যবই বলেনি এবং এখনো বলছে না। পাঠ্যপুস্তকে সাধারণ ভুল নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও ইসলামী বিষয়ে মারাত্মক ভুলগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বক্তারা বলেন, ইসলামের কথা বললেই কি মৌলবাদী হয়ে যায়? মুসলমানরা মুসলমান পরিচয়ে বাঁচতে ইসলামের কথা বলবেন, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কথা বলবেন এটাই স্বাভাবিক। সেজন্য কি মৌলবাদী হয়ে গেলেন। ইসলামে কোনো মৌলবাদের স্থান নেই। বরং মৌলবাদ এসেছে খ্রিস্টানদের দুই শাখা প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিকদের থেকে। সেটা মুসলমানদের উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করাটাও সাম্প্রদায়িকতা। তাছাড়া মৌলবাদ-সন্ত্রাবাদ ঠেকাতে হলে সেটা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কিন্তু সেটা নিয়ে কোনো প্রতিবেদন নেই কেন? বক্তারা বলেন, নতুন পাঠ্যক্রমে ‘ও’ অক্ষরে ‘ওড়না’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। ওড়না মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক হওয়ায় তারা সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ করছে। অথচ একই পাঠ্যক্রমে ঋ-তে শেখানো হচ্ছে ‘ঋষি’। র-তে শেখানো হচ্ছে ‘রথ টানি’। এরুপ আরো অনেক হিন্দুয়ানী শব্দ। সেক্ষেত্রে তারা সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ করছে না। শুধু তাই নয়, পাঠ্যপুস্তকে ‘ওড়না’ শব্দ থাকায় নাকি লিঙ্গ বৈষম্য হয়েছে। নাস্তিক্যবাদীদের মতে, “একেবারে ছোট বয়স থেকে নারী ও পুরুষের পার্থক্য তৈরি করে এমন কোনো শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়।” তাহলে তো স্কুলের ছাত্র ও ছাত্রীদের আলাদা ইউনিফর্মও তুলে দিতে হবে! কারণ ছেলে ও মেয়েদের আলাদা ইউনিফর্ম তাদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করছে এবং লিঙ্গ বৈষম্য শিখছে। পাশপাশি ওড়না বিরোধীদের বক্তব্য অনুযায়ী তাহলে মেয়েরা অন্তর্বাস পরাতে পারবে না। সেলোয়ার কামিজ পরাতে পারবে না। এভাবেও তো তাহলে লিঙ্গ বৈষম্য তৈরি হয়! নারী ও পুরুষের পার্থক্য তৈরি হয়! নাস্তিক্যবাদীরা কি এগুলো বাদ দিবে? এছাড়া বঙ্গমাতা ফজিলতুন নেছা, বর্তমানকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, কৃষিমন্ত্রী সবাই মাথায় শাড়ি বা ওড়না দিয়ে মাথা ঢাকেন। এভাবেই তো তারা দেশ চালাচ্ছেন। ওড়না কি তাদের নারী প্রগতিতে কোনো অন্তরায় হয়েছে? বক্তারা বলেন, বামপন্থী মিডিয়া ও কুচক্রী মহল প্রচার করছে- নতুন পাঠ্যপুস্তকের বিএনপি-জামাত জোটের প্রবন্ধ কবিতা ঢুকানো হয়েছে। মূলত এর নামে তারা বিএনপি জামাত-জোটের নামে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যসূচিই বাদ দিতে চায়। কারণ উল্লেখিত সবগুলো প্রবন্ধ কবিতা ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও পাঠ্য ছিল। যেমন ‘সবাই মিলে করি কাজ’, তৃতীয় শ্রেণীর বাংলা বইয়ে ‘খলিফা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম’, চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা বইয়ে ‘খলিফা হযরত উমর আল ফারুক্ব আলাইহিস সালাম’, পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা বইয়ে ‘বিদায় হজ’। এছাড়া পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা বইয়ে কবি কাদের নওয়াজ রচিত ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’, ‘সবাই মিলে করি কাজ’ [নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক]), সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নীল নদ আর পিরামিডের দেশ’। জসীমউদ্দীনের ‘আসমানী’। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র ‘সততার পুরস্কার’। হাবীবুল্লাহ বাহারের ‘মরু ভাস্কর’, কায়কোবাদের ‘প্রার্থনা’ ও কালিদাস রায়ের ‘বাবুরের মহত্ত্ব’, শাহ মোহাম্মদ সগীরের ‘বন্দনা’, আলাওলের ‘হামদ’, আব্দুল হাকিমের ‘বঙ্গবাণী’, গোলাম মোস্তফার ‘জীবন বিনিময়’ ও কাজী নজরুল ইসলামের ‘উমর-ফারুক’ নবম শ্রেণীর বইয়ে মোতাহার হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধ ‘লাইব্রেরি’ ইত্যাদি কোনোটিই ২০০১ সালের জামাত-জোটের আবিষ্কার নয়। বরং সবগুলোই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ছিল। সরকার এবং জনগণকে বিভ্রান্ত ও বিব্রত করতেই সাম্প্রদায়িক হিন্দু ও নাস্তিক্যবাদীরা এ হীন কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। এমনকি ‘ওড়না’ বর্তমান ধর্মপ্রাণ সরকারের আমলে ২০১৩ সালে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ‘রথ টানি’ ২০১৩ সালে না থাকলেও হিন্দুত্ববাদীরা নতুন পাঠ্যক্রমে ঢুকিয়ে দিয়েছে। বক্তারা বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শুধু ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ে ২৪টি ভুল করা হয়েছে। এছাড়া বানান অস্পষ্ট করা হয়েছে ২টি স্থানে, এছাড়া প্রচলিত শব্দ বাদ দিয়ে অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে ৭টি স্থানে। অথচ এভাবে বিকৃত বানানে পবিত্র কোরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ পড়লে একজন শিক্ষার্থী কুফরী করে ঈমানহারা হয়ে যাবে। গত বছরের ৫৮টি ভুলের মতো এটাকি অনিচ্ছাকৃত ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যমূলক মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। জড়িতদের বহিষ্কার করতে হবে। এরুপ স্পর্শকাতর বিষয়ে অসংখ্য ভুল থাকার পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকতা থাকার পরও মন্ত্রণালয় থেকে তা সংশোধনের এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। বক্তারা বলেন, ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয়ে বর্তমান পাঠ্যপুস্তকে ক্লাস-১-এর বইয়ে এমন কিছু ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে যার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রমূলক সাইকোলজি প্রয়োগ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিশুদেরকে ছোট বেলাতেই বিপথগামী করার কৌশল লুকিয়ে দেয়া হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের ২৪ পাতার পাঠ-১৮এর ছবিগুলোতে দেয়া হয়েছে- “একটা ছেলে ও একটা মেয়ে ফুল তুলছে, এরপর ছেলেটি মেয়েটিকে ফুল সাধছে, মেয়েটি চিঠির মতো দেখতে কিছু পড়ছে, এরপর ছেলেটি ফুল হাতে মেয়েটিকে কিছু বলছে আর মেয়েটি ডাব খাচ্ছে, এরপর ছবিতে ছেলেটি সিনেমার মতো গান করছে, আর মেয়েটি ফুল হাতে নেচে নেচে আসছে। এরপর ২৬ পাতায় ১৯নং পাঠে ছেলে-মেয়েটি তবলা বাজাচ্ছে, এরপর নৌকায় উঠে ছেলেটি তবলা বাজাচ্ছে আর মেয়েটি বৈঠা বাইছে। এরপর ৪৫ পাতায় পাঠ-৩৩-এ ছেলেটি ঘরের দরজা আটকে দিচ্ছে, আর মেয়েটি পাটি আনছে, বিছানা রেডি করছে, পাশে একবাটি সিদ্ধ ডিম! বক্তারা বলেন, ১ম শ্রেণী থেকেই এভাবে কৌশলে শিশুদের অনৈতিকতা ও যৌনতা শেখানো হচ্ছে। ১ম শ্রেণীর বাচ্চাদের এসব অনৈতিকতা ও যৌনতা যদি এখনই শিক্ষা দেয়া যায়, তবে এদের দ্বারা ক্লাস-৫-৬ থেকে লিভটুগেদার করানো সম্ভব হবে। পাঠ্যপুস্তকে যদি এইসব অনৈতিকতা ও যৌনতা প্রবেশ করানো যায়, তবে মুলিম তরুণ সমাজকে নষ্ট করা অনেক সোজা। এজন্য কোমলমতি শিশুদের বল্গাহারা ও বেলেল্লাপনায় অভ্যস্থ করতে প্রগতিবাদের নামে নাস্তিক্যবাদীরা ‘ওড়না’র বিরুদ্ধে লেগেছে। সরকারের গৃহীত কার্যক্রমকে বিতর্কিত করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে। পাঠ্যপুস্তকে আবারো হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যাপক তৎপর হয়েছে। বক্তারা বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শুধু ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ে ২৪টি ভুল করা হয়েছে। এছাড়া বানান অস্পষ্ট করা হয়েছে ২টি স্থানে, এছাড়া প্রচলিত শব্দ বাদ দিয়ে অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে ৭টি স্থানে। ২০১৭ সালের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ের ৩ পৃষ্ঠায় কালেমা তায়্যিবা লিখতে ২ বার ভুল হয়েছে, ১ স্থানে বানান অস্পষ্ট করা হয়েছে। পৃষ্ঠা-৪ ও ৫: কালেমা শাহাদাত লিখতে ৩বার ভুল হয়েছে, পৃষ্ঠা-৬: ঈমান মুজমাল অধ্যায়ে শুরুতেই ভুল হয়েছে ১টি। পৃষ্ঠা-৯: রিসালাত লিখতে বানান অস্পষ্ট করা হয়েছে। পৃষ্ঠা-৩৫: অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলাভাষী শিক্ষার্থীদের আরবী ভাষা শিক্ষা করা আরো কঠিন হয়ে পড়বে। পৃষ্ঠা-৩৬: বহুল প্রচলিত শব্দ ব্যবহার না করে অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। পৃষ্ঠা- ৪৭: পবিত্র হাদীছ শরীফ লিখতে ১টি ভুল করা হয়েছে। পৃষ্ঠা- ৫৭: পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ লিখতে ৬ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফে দুইটি ব্যকরণগত ভুল করা হয়েছে। পৃষ্ঠা-৫৯: পবিত্র সূরা নাস শরীফের ১ম পবিত্র আয়াত শরীফে ১টি বড় ধরনের ভুল করা হয়েছে। পৃষ্ঠা-৬১ ও ৬২: পবিত্র সূরা ফালাক্ব শরীফে ২টি (সব মিলিয়ে ৩টি) ভুল করা হয়েছে।। পৃষ্ঠা-৬৩: পবিত্র সূরা হুমাযাহ শরীফে ২টি ভুল (সব মিলিয়ে ৫টি ভুল), পৃষ্ঠা- ৭১: পবিত্র হাদীছ শরীফ লিখতে ২টি ভুল, ২ স্থানে অপ্রচলিত শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। পৃষ্ঠা-৮০: পবিত্র হাদীছ শরীফ লিখতে ১টি ভুলকরা হয়েছে। পৃষ্ঠা-৮৩: পবিত্র সূরা নহল শরীফের ৯০নং পবিত্র আয়াত শরীফ লিখতে ১টি ভুল করা হয়েছে। একটি পবিত্র হাদীছ শরীফ লিখতে ১টি ভুল করা হয়েছে। পৃষ্ঠা-৮৮: পবিত্র সূরা বাকারা শরীফের ৪২নং পবিত্র আয়াত শরীফ লিখতে ১টি ভুল করা হয়েছে। পৃষ্ঠা-৮৯: ৩ স্থানে অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ এভাবে বিকৃত বানানে পবিত্র কোরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ পড়লে একজন শিক্ষার্থী কুফরী করে ঈমানহারা হয়ে যাবে। ২০১৬ সালের ৫৮টি ভুলের মতো এসব কি অনিচ্ছাকৃত ভুল, নাকি ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া- সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। জড়িতদের বহিষ্কার করতে হবে। বক্তারা বলেন, তারা অপপ্রচার করছে যে, ‘হেফাজতের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই পাঠ্যপুস্তকে এই পরিবর্তন এসেছে’। অথচ বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগই জামাত-হেফাযতীদের আন্দোলনের সুযোগ করে না দিতে ২০১৪ সালেই সবার আগে সর্বপ্রথম পাঠ্যপুস্তকে হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদ পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল। হিন্দুত্ববাদী ও নাস্তিক্যবাদী পাঠ্যক্রমের তালিকা আমরাই প্রকাশ করেছি। যাতে সরকারকে কেউ বেকায়দায় ফেলতে না পারে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের একমাত্র শক্তি ও বর্তমান ধর্মপ্রাণদের সরকার আমাদের আংশিক দাবি পূরণ করেছেন। তবে এখনো পাঠ্যক্রমে হিন্দুত্ববাদ রয়ে গেছে। মুসলমানদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে সাম্প্রদায়িকতাবাদী নারায়ণ চন্দ্র সাহা গংরা। মন্ত্রণালয়, এনসিটিবি, প্রাথমিক ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষাবোর্ড সব জায়গায় তাদের আধিপত্য। শিক্ষা আইনেও রয়েছে নাস্তিক্যবাদী ও হিন্দুত্ববাদীদের কালে থাবা। দেশে ইসলামী শিক্ষা তথা মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দিতে তারা উন্মুখ। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় মুসলমানদের ধর্মীয় স্বকীয়তা নিয়ে আমরা চরম আতঙ্কিত। তাই অবিলম্বে পাঠ্যপুস্তক থেকে সব হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদ প্রত্যাহার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাম্প্রদায়িকতাবাদী হিন্দু নিয়োগের আধিপত্য বন্ধ করতে হবে। এলক্ষ্যে আগামী ১৫ জানুয়ারি আমরা পাঠ্যপুস্তক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবো। মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন, পীরজাদা, পীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান বিপ্লবী জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী, (পীর সাহেব, টাঙ্গাইল), সভাপতি- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সাধারণ সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, সভাপতি- সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, আলহাজ্জ মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফেয়ী-সভাপতি-বঙ্গবন্ধু ওলামা ফাউন্ডেশন। মাওলানা মুহম্মদ শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরী, দপ্তর সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, মাওলানা মুজিবুর রহমান চিশতি সহ সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। হাফেজ মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী বাগেরহাটি হুযূর-সভাপতি বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ শেখ শোয়াইব গোপালগঞ্জী, ক্বারী মাওলানা মুহম্মদ আসাদুজ্জামান আল কাদরী, আল্লামা পীরজাদা পীর আলহাজ্জ হাফেয ক্বারী মাওলানা কাজী মাসুদুর রহমান- সভাপতি বাংলাদেশ ইমাম মুয়াজ্জিন মুসল্লী দ্বীনি কল্যাণ পরিষদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ চেয়ারম্যান- আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার। মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের এক বিরাট মিছিল করা হয়। মিছিল শেষে শহীদ বঙ্গবন্ধু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহের মাগফিরাত কামনা করে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হায়াতে তৈয়বার জন্য দোয়া মোনাজাত করেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী। বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ, জাতীয় কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ ঐক্যজোট, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা পরিষদ, কেন্দ্রীয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, বাংলাদেশ, হাক্কানী আলেম সমাজ, জাতীয় ওলামা পরিষদ, বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, ইমাম মোয়াজ্জিন কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ ফেৎনা প্রতিরোধ কমিটি, আমরা ঢাকা বাসী, বঙ্গবন্ধু ওলামা ফাউন্ডেশন এর পক্ষে- (আলহাজ্ব কাজী মাওলানা মো: আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী) সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি মোবাইল: ০১৮১৯-২৭৯৪৭৫।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal