অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

বিশেষ প্রতিবেদন - ১৬ জানুয়ারী, ২০১৭
 
ইয়াবা সেবনে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ইয়াবার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে পঙ্গু করার ষড়যন্ত্র চলছে ইয়াবার বিস্তার রোধে নিস্ক্রিয় মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর সরকারের উচিত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাচাঁতে যুগপৎ কার্যক্রম গ্রহণ করা।

যে ইয়াবা একসময় বাংলাদেশের জনগণের কাছে অজানা ছিলো সেই ইয়াবা আজ বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে। রাজধানী থেকে শুরু করে ইয়াবা এখন দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে হাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে স্কুল কলেজে বিশাল প্রভাব বিস্তার করেছে। আর সেইসাথে শুধু শহরের স্কুল কলেজেই নয় গ্রামের সাধাণ স্কুলেও হাত বাড়ালেই মেলে মরণনেশা ইয়াবা। মাদক অধিদপ্তরের মহাপরিচালন বলেছেন‘ কোনভাবেই ইয়াবা নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছেনা’। চিকিৎসকদের এক গবেষনায় বের হয়েছে, এখন যে রোগী আসছে তার মধ্যে উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই সর্বাধিক। এদের বয়স ১২ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। নেশার টাকা জোগাড় করতে এরা ভয়ঙ্কর অপরাধী হয়ে উঠছে। দেশের মোট মাদকসক্তদের মধ্যে ৭০ শতাংশই ইয়াবা আসক্ত। এক হিসেবে এর সংখ্যা ২ লাখ। যার মধ্যে সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৯০ হাজার। এরমধ্যে রয়েছে ১০ হাজার নারী শিক্ষার্থী। এদের প্রায় ৭০ শতাংশ উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। ইয়াবায় আসক্ত শিক্ষার্থীদের ৪০ শতাংশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া। অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু করে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ইয়াবা সেবন করে থাকে। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার জন বিভিন্ন স্তুরের পুরুষ ও নারী ওই নেশায় আসক্ত রয়েছে। ২০১৪ সালে সারা দেশে ইয়াবাসেবী শিক্ষার্থী ছিল ৪০ হাজার। তার পরের বছর উচ্চহারে ওই সংখ্যা বেড়ে যায় ৭৫ হাজার ৫০০ জনে। ২০১৫ সালের চেয়ে ২০১৬ সালে ইয়াবা আসক্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে ১৪ হাজার ৫০০ জন। দেশের বিভিন্ন রুট দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ পিছ ইয়াবা দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগ,জেলা, উপজেলা ও থানায় পৌছে যাচ্ছে। টেকনাফ, কক্সবাজার, উখিয়া, বান্দরবান দিয়ে আসতো। কিন্তু ইয়াবা বদি গ্রেফতার হওয়ার পর বর্তমানে ইয়াবা রাজ্যে নতুন সমীকরণ হয়েছে। কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে আসা ইয়াবা চট্টগ্রাম হয়ে নৌপথে চলে যাচ্ছে সুতারকান্দি-বেনাপোল, আখাউড়া-বেনাপোল, তামাবিল-চট্টগ্রাম, সুতারকান্দি-চট্টগ্রাম, আখাউড়া-চট্টগ্রাম, বাংলাবান্ধা-মংলা, বুড়িমারি-মংলা, শাহবাজপুর-দর্শনা, শাহবাজপুর-চট্টগ্রাম, আখাউড়া-দর্শনা, আখাউড়া-চট্টগ্রাম, রোহানপুর-মংলা এবং রায়মঙ্গল-আশুগঞ্জসহ বিভিন্ন নৌবন্দরে। নৌবন্দর থেকে আবার স্থলপথে এই মাদক যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলে। এর মধ্যে কোকেন ও ক্যাপটাগন (সাদা ইয়াবা) নামে দুটি ব্যয়বহুল মাদক সীমিত আকারে হলেও রাজধানীর অভিজাত পরিবারে ঢুকে পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সারা দেশেই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানেও ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। এতদিন শুধু মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চোরাচালানের কথা বলা হলেও এখন ভারত থেকেও ইয়াবা চোরাচালানের তথ্য পাওয়া গেছে। ইয়াবার মূল উপাদান এমফিটামিন উৎপাদনের দিক থেকে পৃথিবীতে ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। এ অবস্থায় অবৈধ পথে এমফিটামিন বাংলাদেশে ঢুকছে। সেইসাথে এসব ইয়াবা ব্যাপকহারে বিক্রি করতে নাম পরিবর্তন করে বিক্রি করা হচ্ছে। সুগন্ধি হওয়ার কারণে অনেকে ইয়াবাকে ক্যান্ডি বলে ডাকে। এর আরো নাম-চকলেট বা বাবা, গোলাপ, সুপার, চম্পা, চামেলী, আর-৭০, আর-৭৩। থাইল্যান্ডের তৈরি ইয়াবার এদেশীয় নাম গোলাপ এবং এর দামও বেশি। বর্তমান প্রতিটি ইয়াবার বাজারদর ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। আর অন্যগুলো ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে। তবে এই দাম ওঠা-নামা করে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ঢাকা নগরীতে প্রতিদিন ১৪ লাখ ইয়াবার চাহিদা। চার গ্রেডের মিলে ব্যবসায়ী সংখ্যা ১৫ হাজার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে চলছে অলিগলিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ইয়াবা বেচাকেনা। এমন লাভজনক ব্যবসায় দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শেষ হচ্ছে কিন্তু এর বিরুদ্ধে কোথাও সাঁড়াশি অভিযান নেই। কারণ এটা বন্ধ হলেই যে বখরা বা চাঁদার মোটা অংক আদায় হবে না। ব্যাপক চাহিদার কারণে- রাজধানীতেই তৈরি হচ্ছে নকল ইয়াবা। একটি ইয়াবার দাম জানা গিয়েছে ৩০০-৪০০ টাকা। ইয়াবার এমন সর্বগ্রাসী পরিস্থিতিতেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ইয়াবা উদ্ধার অভিযান আশংকাজনকভাবে কমে গেছে। উল্লেখযোগ্য হারে মাদক উদ্ধার হ্রাসের পেছনে পেশাদারিত্বের অভাব ও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিকে অন্যতম কারণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক সুত্র থেকে জানা গিয়েছে, গত এক বছরে নির্বিচারে বদলির কারণে অধিদফতরজুড়ে হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মাত্র ৯ মাসে ছোট এ অধিদফতরের ১ হাজার ১০০ জনবলের মধ্যে প্রায় ৭০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই বদলি করা হয়। এর ফলে মাদকবিরোধী কার্যক্রম এক প্রকার নেই বললেই চলে। উল্লেখ্য, বর্তমান অ্যাকাডেমিক শিক্ষায় ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও পারিবারিক বন্ধন, ব্যক্তিজীবনে শৃঙ্খলা, শিষ্টাচার, দেশপ্রেম, ধর্মীয় অনুশীলন ও নীতি নৈতিকতার কোনো বালাই নেই। বেশ কয়েক দফায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র গ্রেফতার হয়েছে। রাজধানীর অভিজাত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। নিজের অজান্তেই অনেকে ইয়াবার নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। অনেকে জড়িয়েও পড়ছে জীবনবিধ্বংসী মাদকের ব্যবসায়। পড়ালেখা ছেড়ে আবার অনেকে কাজ করে ইয়াবার ক্যারিয়ার হিসেবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইয়াবার এই বিস্তার প্রকাশ্যে বাংলাদেশ বিরোধী একটি ঘোর ষড়যন্ত্র। যা পেছনে রয়েছে পাশ্ববর্তী বন্ধু নামধারী প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং অন্যদিকে মিয়ানমার। কারন বাংলাদেশের বিজিবির পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে বলা হয়েছিলো ‘বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে যেসব জেলেরা কাজ করে তাদের পরিচয়পত্র প্রদান করতে। কিন্তু মিয়ানমার বিজিবির এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। সেইসাথে ভারতের বিএসএফ এর সাথে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে বিজিবির। কিন্তু বিএসএফ এ বিষয়ে বিজিবিকে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জানা গেছে, সরকারি সমস্ত সুযোগ সুবিধা ভোগ করে প্রজাতন্ত্রের জন নিরাপত্তায় কাজ না করে অবৈধ পন্থায় বাড়ি গাড়ির মালিক হয়েছেন এ অধিদপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী। পক্ষান্তরে ইয়াবার সর্বনাশা থাবায় দেশ হারাচ্ছে অনেক প্রতিভাবান মানব সন্তানকে। যারা ইয়াবা আসক্তির কারণে ধ্বংস করছে তাদের প্রতিভা এবং মেধাশক্তি। নেমে পড়ছে খুন-রাহাজানি, ছিনতাই, নারী সম্ভ্রম লুণ্ঠনসহ অনেক অভিনব অপরাধে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকা- নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বস্তুত, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই দুর্দমনীয় হয়ে উঠেছে মরণ নেশা ইয়াবা। আর এর ফলে দেশের জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত এই ক্ষোভকে প্রশমিত করতে অবিলম্বে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপÍরকে সক্রিয় ও অধিক শক্তিশালী করে সারাদেশে চিরুনী অভিযান পরিচালনা করা। সেইসাথে সারাদেশে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রচার ও প্রসার ঘটানো।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal